রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশকে যা বিবেচনায় রাখতে হবে



মিয়ানমারে দৃশ্যত একটি বেসামরিক সরকার থাকলেও প্রায় স্বচ্ছ পর্দার আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল সেনাবাহিনীর হাতে। সরকার প্রধান অং সান সু চিও বরাবর তাদের তোয়াজ করেই চলেছেন। এরপরও মিয়ানমারে কেন সেনা অভ্যুত্থান হলো, তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত আছে।

বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন এর পেছনে। দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সবশেষে সমঝোতার পর ২০১৫ সালে সু চির দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। সেনাপতিরা ভেবেছিলেন এ জোয়ার ক্রমে কমে আসবে এবং জাতীয় সংসদের ওপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। ২০২০-এর নির্বাচনে হয়েছে এর উল্টোটা। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। আর সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) পেয়েছে আগের চেয়ে আরও কম আসন। ফলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে দীর্ঘকাল ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের ওপর সেনাবাহিনীর যে সর্বময় কর্তৃত্ব, তা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় কারণটি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে নিয়ে। সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এই ব্যক্তি অবসরে যাচ্ছেন শিগগিরই। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযুক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাও আছে। ক্ষমতার ছাতা সরে গেলে তিনি বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। তাঁর খায়েশ ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়া, যাতে একদিকে ক্ষমতা, অন্যদিকে সার্বভৌম দায়মুক্তি দুটোই থাকে। শোনা যায় সু চি নাকি তাতে সম্মত হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.